গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময় থেকেই বাংলাদেশে ইসলামী মৌলবাদীদের আকস্মিক উত্থান বেশ উদ্বেগের। ধর্মভিত্তিক ইসলামপন্থী উগ্র মৌলবাদী রাজনৈতিক দলগুলো শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার দাবিতে সরব হয়েছে। কালেমাখচিত সাদাকালো পতাকা হাতে সারাদেশের বিভিন্ন জেলায় মিছিল হয়েছে, যা দৃশ্যত আল-কায়েদা ও তালেবানদের ব্যবহৃত পতাকার সদৃশ; এ নিয়ে গত ১০ আগস্ট জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রিপোর্টেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
কেন এই ইসলামী মৌলবাদী শক্তি হঠাৎ করেই সারাদেশে ইসলামী শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার দাবিতে সরব হয়েছে?
মুসলমানের পবিত্র ইসলাম, কোরআন ও ধর্মবিশ্বাস কি মানবাধিকারের নিশ্চয়তা বিধান করতে পারে? না, পারে না। ইসলামের আবির্ভাব থেকেই নবী মুহাম্মদ থেকে শুরু করে যে ইসলামী জীবনদর্শনের ইতিহাস, সেখানে সবকিছুকে ছাপিয়ে মানুষের প্রতি মানবাধিকার হরণের বিষয়টিই প্রাধান্য পেয়েছে।
যেমন ধরুন বাংলাদেশে সারাবছর ধর্ষণ, বলাৎকার নিয়ে যত সংবাদ ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়; দেখা যায়, এর বেশিরভাগের সাথেই সম্পৃক্ততা থাকে ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী মুসলিম, ধর্মের আলেম, মাওলানা, মসজিদের ইমাম থেকে মাদ্রাসাগুলোর। এর মধ্যে মসজিদ, মাদ্রাসাগুলোতেই ধর্ষণ ও বলাৎকারের ঘটনাপ্রবাহ বেশ উদ্বেগের। যার কারণে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধে সরকারের উদ্যোগ প্রয়োজন।
ইসলাম প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে ধর্ষণ, বলাৎকারের বিষয়টি নিয়ে আসার পেছনে কারণটি বলা জরুরি। সম্প্রতি বাংলাদেশের এক ধর্মীয় আলেম আহমাদুল্লাহ বলেছেন, শরিয়াহ আইনে ধর্ষণের শাস্তি জিনার চেয়েও ভয়াবহ। কিন্তু বর্বর নবী মুহাম্মদের প্রচারিত ধর্ম ইসলামে জিনার শাস্তি কী?
কেউ বিবাহিত হলে (রজম) মৃত্যুদণ্ড—ততক্ষণ পর্যন্ত পাথর মারা, যতক্ষণ পর্যন্ত শাস্তি নিশ্চিত না হয়। এবং অবিবাহিত হলে একশত দোররা অথবা এক বছরের নির্বাসন। কিন্তু একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ স্বেচ্ছায় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে মৃত্যুদণ্ড, এ ধর্ম কতটা নৃশংস ও বর্বর।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, আজকের বাংলাদেশে ধর্মীয় মাদ্রাসাগুলোতে যে ধর্মীয় শিক্ষকদের দ্বারা ছোট ছোট বাচ্চারা বলাৎকারের শিকার হচ্ছে, এর শাস্তি কী? কোরআন এ বিষয়ে কী বলে? এ নিয়ে কি কোনো ব্যাখ্যা আছে?
মাদ্রাসার এ বলাৎকার এখন শিল্পের পর্যায়ে চলে গেছে। সেখানে আল্লাহর নামে বলাৎকার হালাল। জ্যামিতিক হারে বাড়ছে এর সংখ্যা। এই আহমাদুল্লাহরাই আবার ফতোয়া দেন, স্ত্রীকে বিবাহ করতে হয়, কিন্তু ক্রীতদাসীকে বিবাহ করতে হয় না। ক্রীতদাসী স্ত্রীর মতোই।
এই তথাকথিত ধর্মান্ধ মাওলানারা কিছুই মানেন না। না জাতীয় সংগীত, না সংবিধান, না গণতন্ত্র, না প্রচলিত আইন।
এই ধর্ষণকারীরাই আজকে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকায়। এবং এদের হাতেই বলাৎকার হচ্ছে কথিত সরকারদলীয় বিএনপি। যাদের মৌলবাদের সাথে সম্পৃক্ততার ইতিহাস রয়েছে ২০০১-২০০৬ সালের পুরোটা জুড়েই। সারাদেশে জঙ্গিবাদী উত্থান এবং এসব উত্থানের পেছনে আজকের সরকারপ্রধান তারেক রহমানের সম্পৃক্ততার যে অতীত; আওয়ামী লীগ সরকারকে এই ইসলামপন্থীরা সারাদেশে জঙ্গিবাদী কায়দায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের হত্যার মধ্য দিয়ে, ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে উৎখাত করেছে। এর মধ্য দিয়ে আজকের বাংলাদেশ আবারও সেই মৌলবাদীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হচ্ছে। যেখানে আগামী প্রজন্ম মাদ্রাসা ব্যবস্থা, ধর্ম—এসবের মধ্য দিয়ে মৌলবাদ, উগ্রবাদ ও চরমপন্থী মনোভাবের প্রতি ঝুঁকছে নিজেদের অজান্তেই।