জয় জয় পাকিস্তান—বাংলাদেশ হবে তালেবান।
রাজনৈতিক কালো সন্তান, জঙ্গিরানি প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির শাসনামলে এমন স্লোগানে যে কেউ অবশ্যই বিস্ময় বোধ করছেন।
সাম্প্রতিক সময়গুলোতে বিএনপি সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার পরপরই রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ‘মার্চ ফর খিলাফত’ শীর্ষক পদযাত্রা, কলেমাখচিত সাদাকালো পতাকা নিয়ে মিছিল করতে দেখা গিয়েছে প্রকাশ্যে। এবং এসব পতাকার নকশা তালেবান, আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর ব্যবহৃত পতাকার দৃশ্যগত মিল রয়েছে। সম্প্রতি গত ১০ আগস্ট জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক প্রতিবেদনে বলেছে বাংলাদেশে আল-কায়েদা ঘাঁটি তৈরি করেছে। এবং আল-কায়েদা ও আইএস-সংক্রান্ত হুমকি রয়েছে।
সাধারণ একটি প্রশ্ন গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের মানুষের মনের মধ্যে এক ধরনের উদ্রেক তৈরি করেছে।
আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ঠিক কোথায় যাচ্ছে?
এখন আমাদের কী হবে?
সমগ্র দেশে ইসলামপন্থী মৌলবাদী গোষ্ঠীর আকস্মিক উত্থান ঘটেছে। ইসলামী শরিয়াহ আইন, খেলাফত প্রতিষ্ঠা, ধর্মের আইনের জন্য জিহাদ করা—এমন শব্দগুলো আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলের দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় অপরিচিত ছিল এ দেশের সকল শ্রেণির মানুষের কাছে। কিন্তু আজকের অবস্থানে দাঁড়িয়ে বিএনপি ও মৌলবাদী গোষ্ঠী জামায়াত রাষ্ট্রব্যবস্থার দখলদারিত্ব নিয়েছে। ৫৭ হাজার বর্গমাইলের দেশের নিয়ন্ত্রণ আজকে জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম, খেলাফতে মজলিশসহ ইসলামপন্থী মৌলবাদী, উগ্রবাদী ও চরমপন্থী গোষ্ঠীদের কাছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের অবস্থানে চলে আসে। রাষ্ট্রক্ষমতার সমান্তরালে থেকে মৌলবাদী এবং সন্ত্রাসবাদী সত্তা জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ব্যানারে রাষ্ট্র পরিচালনায়। এদের মধ্য দিয়েই সন্ত্রাসবাদী এবং উগ্র ইসলামি গোষ্ঠীগুলোর কার্যকলাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এছাড়াও ২০২৪ সালের আগস্ট মাস থেকে জেএমবি তার সাংগঠনিক কার্যক্রম বৃদ্ধি করেছে। হেফাজতে ইসলামের মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামী ও হিজবুত তাহরিরের মতো উগ্র জঙ্গিবাদী সংগঠনগুলো আইএসআই-এর সাথে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য তৎপর রয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ড. মুহাম্মদ ইউনূসের শাসনামল থেকেই। বাংলাদেশকে তালেবানি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে আজকে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে তালেবানি জঙ্গি ও ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার মিশনে বিএনপি-জামায়াতসহ পাকিস্তানপন্থী ইসলামপন্থীরা।
কিন্তু প্রশ্ন হলো বিএনপি সরকার সরকার গঠনের পর থেকেই কেন সারাদেশে উগ্র জঙ্গিবাদের উদ্ভব? একটু পেছনে ফেরা যাক। ২০০১-২০০৬ বিএনপি-জামায়াত জোট। রাষ্ট্রক্ষমতায় পাকিস্তানপ্রেমী প্রয়াত অধ্যাপক গোলাম আজম, আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও কাদের মোল্লার মতো পেয়ারে পাকিস্তানিদের প্রজননে জন্ম নেওয়া ৭১-এর ধর্ষক, ঘাতক ও বাংলাদেশবিরোধী শক্তির সাথে।
আজকের যিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তিনি আসলে কে?
বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনামলে সারাদেশে উগ্র মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ ও চরমপন্থা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল তারেক রহমানের নেতৃত্বে। তাঁর রাজনৈতিক কার্যালয় হাওয়া ভবন ছিল জঙ্গিবাদের অন্যতম নেটওয়ার্ক। যেখান থেকে সারাদেশে জঙ্গিবাদী গোপন কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো।
২০০৪ সালের ২১শে আগস্টে বাংলাদেশের যে নির্মম গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে, এর পেছনে নির্দেশনায় ছিলেন আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। হুজি নেতা মুফতি আবদুল হান্নানদের মতো জঙ্গিদের সাথে নিবিড় যোগাযোগ ছিল তারেকের। তাঁকে বাংলাদেশের আদালত এ মামলায় অন্যতম আসামি করে এবং জঙ্গিবাদের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশদাতা হিসেবে উল্লেখ করে। সে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে পলাতক অবস্থায় ছিলেন দীর্ঘ ১৭ বছরেরও বেশি সময়।
আজকের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে তারেক রহমানের মতো পাকিস্তানপন্থী জঙ্গির মদদদাতা রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী, যা মা প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন জঙ্গিরানি হিসেবে। জামায়াতে ইসলামীর ধর্ষক নেতাদের সাথে প্রয়াত বেগম জিয়ার উন্মাদনার রাজনৈতিক, মনস্তাত্ত্বিক ও শারীরিক দেওয়া-নেওয়ার গল্পের সূত্রেই জন্ম নেওয়া আজকের রাজনৈতিক কালো সন্তান তারেক রহমান, যার রক্তেই জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদপ্রীতি। সেখানে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ তালেবানি রাষ্ট্র ব্যবস্থার আদলে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্নের পুনর্জীবন জিহাদি ও জঙ্গি গোষ্ঠীরা ঘটালে এটি অযৌক্তিক নয়।
জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতসহ এসব ইসলামপন্থীরা কেন বাংলাদেশকে শরিয়াহ আইন, খেলাফত প্রতিষ্ঠা করে তালেবানি রাষ্ট্রব্যবস্থা চায়? নবী মুহাম্মদের ধর্ম ইসলামের নামে যাতে ভিন্ন মত, ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রের মানুষদের দমন-পীড়ন, নবীর মতো একাধিক স্ত্রী, দাসী ও গণিমতের নারীদের মতো নারী সম্ভোগের প্রথা ফিরিয়ে নিয়ে আসা যায়। যেখানে নারীর কোনো অধিকার ও আত্মমর্যাদার প্রশ্নে মানবাধিকার, নারী ও শিশুর অধিকার ভুলুণ্ঠিত হবে।
নবী মুহাম্মদই সর্বপ্রথম এপস্টিন, যিনি স্বরচিত আসমানি আয়াত নাজিল করে শিশু আয়েশা (৬ বছর বয়স), যাকে ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার আগে, এমনকি যে বয়সে কোনো নাবালিকা নারীর নিজের সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তৈরি হয় না, এমন একজন নাবালিকাকে বিয়ের নামে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। তাঁর হারানো শৈশব ও পৌঢ় নবী মুহাম্মদের শারীরিক নির্যাতনে শিশু আয়েশার আর্ত চিৎকার সেদিন মানবতাকে ভুলুণ্ঠিত করেছিল। এমন ইসলাম ও ধর্মের আইনের স্বপ্নই দেখে এসব তালেবানেরা বাংলাদেশে। যেখানে ধর্মের নামে শিশু ধর্ষণকেও বৈধতা দেওয়া যাবে। এরা পৃথিবীকে কাল্পনিক হেরেমখানা জান্নাত বানাতে বদ্ধপরিকর।
কিন্তু প্রশ্ন একটি থেকেই যায়, এখন আমাদের কী হবে?