শিরোনাম :
ধর্মচর্চা থেকে রাষ্ট্রক্ষমতা—ধর্মের আড়ালেই অধর্ম আওয়ামী লীগ-পরবর্তী বাংলাদেশে ইসলামী মৌলবাদের উত্থান: শরিয়াহ আইন ও মানবাধিকারের প্রশ্ন বিএনপি-জামায়াতের রাজনৈতিক সমীকরণে জঙ্গিবাদ প্রসঙ্গে উদ্বেগ শিশু ধর্ষণ ও বলাৎকার মুসলমানের জন্য বৈধ! মুসলমান, মৌলবাদী ও জঙ্গি—এদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই ইসলামে নারীদের পর্দা প্রথার উৎস ধর্ম ইসলামের বর্বরতা: নবী, কোরআন ও যৌনতার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন বাংলাদেশে জিহাদের উন্মাদনা: ধর্মান্ধতার উত্থানে মানবিক রাষ্ট্রের সংকট ইসলামপন্থীদের উত্থানে বাংলাদেশে উন্মাদনা: তালেবানি রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বপ্ন এলজিবিটিকিউ মানুষের আত্মপরিচয়: রংধনুর মতো বৈচিত্র্যময় ও বর্ণিল
অনুসন্ধান করুন:
|
আমাকে অনুসরণ করুন:
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন

ধর্মচর্চা থেকে রাষ্ট্রক্ষমতা—ধর্মের আড়ালেই অধর্ম

কামরুল ইসলাম
প্রকাশিত : শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ধর্ম ইসলামের আবির্ভাবের পর নবী মুহাম্মদ থেকে শুরু করে আজকের বিশ্বে এর প্রভাব বিস্তৃত হয়েছে। মুসলিমরা সম্পর্কের নিরিখে একটি পরম্পরার মধ্য দিয়ে বংশানুক্রমে অনুকরণ, অনুসরণ ও চর্চা করে আসছে। কিন্তু ধর্মচর্চার অবাধ এ ব্যাপকতা চলছে কোনো প্রশ্নহীনভাবেই।

বাংলাদেশের পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় ইসলাম ধর্মের গোঁড়ামি, ধর্মের আড়ালে অধর্ম এবং রাষ্ট্রযন্ত্রে ইসলামের শরিয়াহ আইনের পৃষ্ঠপোষকতা মনে করিয়ে দেয়; ধর্ম যতটা না মানবাধিকারের ধারক, তার চেয়েও এর লঙ্ঘনের অভিযোগেই সবচেয়ে বেশি অভিযুক্ত। ধর্মই জন্ম দেয় অধর্মের।

ইসলাম ধর্মের মনস্তত্ত্ব, ইতিহাস ও ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহে দেখা যায়, ইসলাম প্রতিষ্ঠার পেছনে মূল উদ্দেশ্যই ছিল অর্থ, ক্ষমতা ও নারী। যেখানে ইসলাম প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ জয়ের মধ্য দিয়ে ইসলাম ধর্মের প্রচারক নবী মুহাম্মদ ও তাঁর সাহাবীগণ যুদ্ধে বন্দিনী নারী, শিশু ও যুবকদের প্রতি যে আচরণের দৃষ্টান্ত দেখিয়েছিলেন, তা কোনোভাবেই দৃশ্যমান করে না যে ইসলাম শান্তির ধর্ম। যুদ্ধ জয়ের পর বন্দিনী নারীদের প্রতি যৌনপীড়ন, অনিচ্ছা সত্ত্বেও শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করা, কোনো নারী গর্ভবতী কি না তা নিশ্চিতের জন্য মাসিক হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া—অতঃপর সেই নারীকে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করা, গণিমতের মাল হিসেবে বিক্রি; অর্থাৎ নারীদের মর্যাদার প্রশ্নে ইসলাম সবসময়ই ছিল বর্বর।

নবী মুহাম্মদের যুগের প্রেক্ষাপটে, যুদ্ধে বন্দী নারী যারা “মা মালাকাত আইমানুকুম” (ডান হাতের মালিকানাধীন) হিসেবে গণ্য হতেন, তাঁদের সঙ্গে যৌনসম্পর্ককে বৈধ বলে ধরা হতো।

এটি শুধু সাধারণ মুসলিমদের ক্ষেত্রেই নয়, নবীর ক্ষেত্রেও কুরআন ৩৩:৫০-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। মুসলমানের পবিত্র কোরআনও এর প্রচারকদের ইচ্ছা, অনিচ্ছা ও অভিপ্রায় থেকে স্বরচিত আয়াতের মধ্য দিয়ে বৈধতা দেওয়া হয়েছে গর্হিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের স্পষ্ট ঘটনাগুলোকেও।

আজকের বর্তমান বাংলাদেশে একটি রাজনৈতিক পটপরিবর্তন স্পষ্ট। যেখানে আওয়ামী লীগের ক্ষমতাচ্যুতির পর এ রাষ্ট্রের দখল নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম, খেলাফত মজলিশসহ ইসলামী ঐক্যজোটের ব্যানারে সেই ইসলামপন্থীরা। আজকে তাঁরা রাষ্ট্রে খেলাফত প্রতিষ্ঠা চায়, শরিয়াহ আইন চায়, ৭২-এর সংবিধান বাতিল চায়; এজন্যই চায় যাতে ইসলামের জাহেলিয়াত যুগের অবতারণা করা যায়। এবং রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা নতজানু বিএনপি সরকারও এ মৌলবাদীদের শুধুমাত্র রাজনৈতিক অভিপ্রায়ে সমগ্র বাংলাদেশকে মৌলবাদ, উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদের অবাধ বিচরণের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছে।

কিন্তু এ রাষ্ট্রের কোনো ধর্ম নেই। রাষ্ট্র সকল ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ও যৌন পরিচয়ের মানুষের। এ মৌলবাদকে রুখে দিতে আওয়ামী লীগের মতো একটি প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলের প্রত্যাবর্তন প্রত্যাশিত। এ দেশকে ইসলাম ধর্ম ও কোরানের আইনের নামে নারীলিপ্সু এ বর্বর ইসলামী ধর্ষকদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ন্ত্রিত হতে দেওয়া যাবে না।


আরও পড়ুন