বাংলাদেশে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের অন্তরালে ইসলামী জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা ধর্মান্ধ মুসলমানদের আগ্রাসী করে তোলে। এ আগ্রাসন, বর্বরতা, হত্যাযজ্ঞ ও দেশব্যাপী ভয়াল তাণ্ডবের পেছনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে ধর্ম, ইসলাম, মুসলমান ও সুনির্দিষ্ট একটি এজেন্ডায় এ দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ধর্মীয় আবেগের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক ইসলামের দলগুলো।
যারা মৌলবাদী, উগ্রবাদ, চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদকে ধর্ম ও এর আইন প্রতিষ্ঠায় ধর্মান্ধ মুসলমানদের আবেগকে তাড়িত করে ব্যবহার করে নগ্নভাবে। কোটাবিরোধী আন্দোলন থেকে এক দফার সরকার পতনের আন্দোলনে সারা দেশে সশস্ত্র হয়ে ওঠে ধর্ম ইসলামের নামে জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম, জেএমবি, হুজি (হরকাতুল জিহাদ) সহ সকল ইসলামী রাজনৈতিক ও জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো। দুই হাজারেরও বেশি ছাত্র-জনতাকে প্রকাশ্য ও গুপ্ত হামলা চালিয়ে হত্যা করে তালেবানি সশস্ত্র কায়দায়।
আওয়ামী লীগের মতো একটি গণতান্ত্রিক বৃহৎ রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয় সম্মিলিত ইসলামী জিহাদ। ক্ষমতাচ্যুতি ঘটে দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের মানুষের আস্থা নিয়ে গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের। সারা দেশের সাধারণ মানুষ দেখলো, এ দেশের ধর্ম ইসলামের জিহাদি মৌলবাদীরা কতটা বেসামাল ও বীভৎস হয়ে উঠতে পারে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরাপত্তার শঙ্কায় প্রতিবেশী দেশ ভারতে আশ্রয় নেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ডা. মুহাম্মদ ইউনূসের পরবর্তীতে ক্ষমতাগ্রহণের পরপরই সারা দেশে ধর্মীয় উগ্রবাদ, মৌলবাদ ও চরমপন্থার উত্থান প্রকাশ্যে আসে। দেশে শরিয়াহ আইন, খেলাফত প্রতিষ্ঠার দাবিতে উগ্রবাদী মুসলিম জঙ্গিদের কালেমা-খচিত সাদা-কালো পতাকার মিছিল বেশ বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করে বাংলাদেশের মানুষ। মূলত গণ-অভ্যুত্থানের অন্তরালে এ আন্দোলন ছিল দেশকে জিহাদিস্তান, তালেবান ও আফগানিস্তানের মতো রাষ্ট্রে পরিণত করার পরিকল্পনা।
জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ব্যানারে প্রকাশ্যে এলো দ্বীন ইসলামের নামে নবী মুহাম্মদের অনুসারীরা।
এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা ও মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের বাঙ্গু তালেবান সংসদে দাঁড়িয়ে বলে, নবী মুহাম্মদকে নিয়ে কটূক্তিকারীদের কটূক্তি করে, নবীর নামে গালিগালাজ করে, তাদের প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়ার আহ্বান জানায়।
কিন্তু এই নব্য তালেবান যে নবীকে নিয়ে মন্তব্যের জেরে মুক্তমতের মানুষদের প্রকাশ্যে ফাঁসির দাবি তুলছে, সে নবী মুহাম্মদ আসলে কে? তিনি যে ইসলাম প্রচার করেছিলেন সে ইসলামের শিক্ষা কেমন?
ইসলাম এমন এক ধর্মীয় বিধান যা বৈষম্যের জন্ম দিয়ে চলেছে যুগের পর যুগ। ইসলাম নারী ও শিশু, বিশেষ করে এ দুই শ্রেণীর উপর নির্মমতা দেখিয়েছে নবী ইসলামের প্রাথমিক যুগ থেকেই। যেখানে নাবালিকা নারীদের ধর্মের দোহাই দিয়ে বিয়ের ইতিহাসের নজির রয়েছে। নারীদের এতটাই অবঞ্জার চোখে দেখা হত, যেখানে তাদের ইচ্ছা, অনিচ্ছার মূল্যায়ন করা হত না। ইসলাম কখনো নারীদের ইসলাম প্রচারে সংঘটিত বুদ্ধে বন্দিনী হিসেবে মুসলমানের যৌন লালসার বস্তুতে পরিণত করেছে, কখনো তাঁদের সম্ভ্রম হানিকে হালাল হিসেবে পরিগণিত করেছে কোরআনের আয়াতের মধ্য দিয়ে। যা ইসলাম ধর্মের প্রচারক নবী মুহাম্মদের যুগেই সংঘটিত হয়েছিলো।
অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, বিএনপিও এই ধর্মান্ধ জঙ্গিদের বিরোধী দল বানিয়ে সংসদ পরিচালনা করছে। রাষ্ট্রীয় আইন প্রণয়ন করছে। প্রয়াত জঙ্গিরানী বেগম খালেদা জিয়ারও একাকিত্ব কাটাতে জামায়াতে ইসলামীর মতো রাজনৈতিক দলের—যে দলের নেতারা ১৯৭১-এর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছে, যারা দেশকে তালেবানি রাষ্ট্র বানাতে চায়, যারা নারীদের ধর্ষণ করেছে—এমন ধর্মীয় মাওলানাদের সঙ্গে রাজনৈতিক পরকীয়ায় জড়িয়ে ছিলেন। আজকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, রাজনৈতিক কালো সন্তান ও পাকিস্তানি পুত্র তারেক রহমানও এই উগ্রবাদীদের জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসিয়ে বাংলাদেশকে জঙ্গি ও ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করছে। এই তারেক রহমানই জঙ্গিবাদে ২০০১–২০০৬ সালে হাওয়া ভবনে বসে সারা দেশে জঙ্গিবাদের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন।
বাংলাদেশকে ধর্ম ইসলামপন্থীদের জিহাদিস্তান হতে দেওয়া যাবে না। ধর্ম ইসলাম, কোরআন ও শরিয়াহ আইনের নামে বলাৎকার হওয়া এসব পায়ুগামীদের হাতে দেশের মানুষ নিরাপদ নয়। এসবের মূল উৎপাটনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।