শরীর সম্পর্কে প্রচলিত যৌন পরিচয়ের ভিন্নতা ও বিভাগ রয়েছে। এটি একটি বৈচিত্র্যময় পরিচয়। যৌন পরিচয়ে ভিন্নতা থাকা এসব এলজিবিটি মানুষেরা রাষ্ট্র, সমাজ, পরিবারের বাইরেও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। এ সম্প্রদায়ের মানুষদের ভুলভাবে চিহ্নিত করা, রোগ ও বিকৃতি হিসেবে উপস্থাপন করা সহ আদালতের আইন ও চিকিৎসা ব্যবস্থা দ্বারা নির্যাতিত হন।
কিন্তু এর বাইরে বাংলাদেশের মতো মুসলিমপ্রধান দেশ, যেখানে ধর্ম ইসলামের প্রভাব রয়েছে, মৌলবাদ, উগ্রবাদ ও চরমপন্থার দ্বারা সেখানে এসব মানুষেরা জীবন অতিবাহিত করেন ভয়, শঙ্কা এবং নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে।
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক হলের দুইজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সমকামিতার অভিযোগ ওঠায় তাদের সিট বাতিল করেছে প্রশাসন।
(সূত্রঃ বিবিসি নিউজ বাংলা, ঢাকা)
বাংলাদেশের আইনেও ‘সমকামিতা’কে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি। রাষ্ট্র, আইন এবং ধর্ম ইসলামের উগ্রবাদী শরিয়াহ আইনের আওতায় এ ধরনের মানুষদের হত্যাযজ্ঞ মনে করা হয়। যার ফলে এক ধরনের বিকৃত মনস্তত্ত্ব থেকে উগ্রবাদী নবী মুহাম্মদের উম্মতেরা যৌন পরিচয়ে ভিন্নতা থাকা এ মানুষদের ধর্ম রক্ষায় হত্যাকে জায়েজ মনে করে। ইসলামের চার মাযহাব, সাহাবি ও আলেমগণ এমন হত্যাকে অনুমোদন দেয়।
দ্বীন ইসলামের প্রচারক কথিত শিশু ধর্ষক নবী মুহাম্মদ “তোমরা যাকে লুত সম্প্রদায়ের কৃতকর্ম করতে দেখবে, তাকে এবং যার প্রতি তা করা হয়েছে, উভয়কেই হত্যা করো।” (আবু দাউদ, হজ্জ/৪৪৬২)
অর্থাৎ ধর্ম ইসলাম, নবী মুহাম্মদ রচিত যৌন গল্পের পৌরাণিক গ্রন্থ কোরআনও এলজিবিটিকিউ মানুষদের যৌন পরিচয়ের এ স্বাভাবিক বিষয়কে স্বীকৃতি দেয় না।
এমনকি ১৮৬০ সালের বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা অনুযায়ী, প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধে যেকোনো যৌন মিলন, যেমন সমকামিতা বা পায়ুসঙ্গম, একটি শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ। এই আইন অনুযায়ী, ১০ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান রয়েছে।
তবে, সরকার ইসলামী দেশগুলোর মতো ‘তৃতীয় লিঙ্গ’কে স্বীকৃতি দিয়ে ৩৭৭ ধারা বাতিল করেনি। বরং সরকার বলতে চায় যে, আমরা তৃতীয় লিঙ্গকে স্বীকৃতি দিয়েছি কিন্তু সমকামিতাকে অবৈধ করেছি। ৩৭৭ ধারা বাতিল হবে না।
যে ধর্ম ইসলাম, কোরআন ও যে রাষ্ট্রের আইন মানুষের অধিকারের স্বীকৃতি দেয় না, সে কোরআন ভিন্ন যৌন পরিচয়ের এ মানুষদের উচিত প্রকাশ্যে রাস্তায় পুড়িয়ে এর প্রতিবাদ জানানো। একই সাথে বাংলাদেশের তথাকথিত আইন ও সংবিধান ছুড়ে ফেলা উচিত।
এলজিবিটি সম্প্রদায় এবং লিঙ্গ সংখ্যালঘুদের স্বীকৃতির জন্য লড়াই লিঙ্গপাল মুসলমান ও রাষ্ট্রের আইনের বেশ্যাবৃত্তির বিরুদ্ধে। ২০০৯ এবং ২০১৩ সালে, বাংলাদেশ সংসদ ৩৭৭ ধারা বাতিল করতে অস্বীকার করে। যেখানে রাষ্ট্রের আচরণ অমানবিক ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন।
ভিন্ন যৌন পরিচয় ও সমকামিতার মতো বিষয়কে বৈধতা দিতে হবে। যৌন ধর্ম ইসলাম ও নারীর যোনিখোর নবী মুহাম্মদ ও তার সেক্স নারীদের বীর্য থেকে জন্ম নেওয়া ধর্মের আলেম, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মের বেশ্যারা ছোট ছোট বাচ্চাদের মসজিদ, মাদ্রাসায় আল্লাহর উপস্থিতিতে নারায়ে তাকবির বলে আল্লাহর নামে বলাৎকার করছে। এরা লিঙ্গকাটা দ্বীন ইসলামের সমকামী। কোরআনের আয়াত অর্থাৎ নবী ও তার স্ত্রী, দাসীগণের সাথে সেক্সের গল্প যাদের আত্মস্থ হয় না, তাদের ধর্মের নামে পোদ মারা হয়। এরপর শরিয়াহ আইনের নামে, ধর্মের নামে দায়মুক্তি দেওয়া হয় এসব শিশু নির্যাতনকারীদের।
সমকামিতা অপরাধ নয়। মুসলিম সমকামীর সংখ্যাই অত্যাধিক। শুধুমাত্র প্রতিকূল পরিবেশের কারণে ভয়, লজ্জা ও সামাজিক পরিবেশের কারণে এরা পরিচয় প্রকাশে হীনমন্যতায় ভোগে। যার কারণে মসজিদ, মাদ্রাসায় এসব বলাৎকারের ঘটনা ঘটছে।
ভিন্ন যৌন পরিচয়ের এসকল মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। রাষ্ট্রীয় আইনে ৩৭৭ ধারা বাতিলসহ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে ধর্মের প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। একই সাথে উগ্রবাদ, মৌলবাদ ও সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে আসছে যে ধর্ম ইসলাম, সে ধর্মকে প্রতিহত করা ও নবী মুহাম্মদের নিষিদ্ধ যৌন পল্লির কিতাব কোরআনের সব কপি বাজেয়াপ্ত করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে।